পৌরসভার ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে বারই খাল

পৌরসভার ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে বারই খাল
Spread the love

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৌরসভার বাসা বাড়ির ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে বারই খাল এবং আশপাশের ডোবা-নালা। ময়লা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশও বিষিয়ে উঠেছে। ময়লা ফেলায় খাল ও ডোবা-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির গতিপথ বন্ধ ও খাল ভরাট হয়ে এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পৌরসভার কর্মচারীগণ বিভিন্ন বাসাবাড়ির পচা ময়লা আবর্জনা ভ্যান গাড়িতে করে খালে ফেলছেন।

মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলে পৌরসভার খাল ও ডোবা-নালা ভরাট করার কোন সুযোগ নেই। পরিবেশ রক্ষার জন্য সরকারি নির্দেশনায় খাল খননের উদ্যোগ এবং ডোবা-নালা রক্ষার জন্য পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।

জানা গেছে, ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠিত হয়। প্রয়াত সাবেক জনপ্রিয় মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হলেও বাড়েনি পৌরবাসীর নাগরিক সুযোগ সুবিধা। পৌরবাসীর মধ্যে মো. বিল্লাল হোসেন (৩৮), মিন্টু মিয়াসহ (৫৬) একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়নিষ্কাশন, গ্যাস সমস্যা, রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ-কালভাটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মির্জাপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড। সবচেয়ে বেশী সমস্যা মির্জাপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ তিন নম্বর ওয়ার্ড। তিন নম্বর ওয়ার্ডটি উপজেলা সদর হওয়ায় প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের চলাচল। এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তা-ঘাটের খুবই করুন দশা। সামান্ন একটু বৃষ্টি হলেও রাস্তার উপর কখনো হাঁটু পানি আবার কখনো কোমর পানিতে পরিণত হয়। কালীবাড়ি রোড, কলেজ রোড, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোড, কুমুদিনী হাসপাতাল রোড ও বংশাই রোডের শোচনীয় অবস্থা।

এদিকে মুল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা। পৌরসভার নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বারই খালসহ আশপাশের বিভিন্ন ডোবা-নালায়। ফলে খাল ও ডোবা-নালা ভরাট হয়ে একদিকে যেমন পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তেমনি এলাকার পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার কাঁচা বাজারের উত্তর পাশ, পুরাতন রোডের বাইমহাটি, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, মির্জাপুর সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশে নতুন ব্রিজ সংলগ্ন, পালপাড়া, ইউনিয়নপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, পুষ্টকামুরী, প্রফেসরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় খাল ও ডোবানাল ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইলের উপ পরিচালক মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, পৌর এলাকাবাসী অভিযোগ করলে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে খাল ও ডোবা নালা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, পৌরসভার নিজস্ব কোন জায়গা না থাকায় ময়লা আবর্জনা বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। ইউজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ময়লা ফেলার ডাম্পিং ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় এমপি মহোদয়, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পৌরসভার খাল, ডোবা-নালা উদ্ধার করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালভার্টসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পের দ্রুত উন্নয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *