ওয়াজ মাহফিলঃ শেষ গন্তব্য কোথায়?

Spread the love

সোনালী বাংলাঃ মুসলমানদেরকে তাদের ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধি ও আমল আখলাক গঠনের জন্য আয়োজন করা হয় ওয়াজ মাহফিলের৷ মুমিনের ঈমানে দৃঢ়তা ও আমলে স্থীরতা আনয়ন করাই তার অন্যতম লক্ষ্য ধর্মীয় শিক্ষা বঞ্চিত সাধারণ মুসলমানদেরকে আল্লাহ ও তার রাসুল সা. এর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ ও পন্থা শিখিয়ে দেয়ার জন্য ধর্মীয় বক্তাদেরকে দাওয়াত করা হয় এসব মাহফিলে৷ কুরআন হাদিসের নসিহত শুনার প্রবল আগ্রহ-উদ্দিপনা নিয়ে সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ করে এসব মাহফিলে৷

কিন্তু ওয়াজ মাহফিলের এসব লক্ষ্য উদ্দেশ্য আর উপকারিতার দিকে এখন আর কেউ তাকায়না!

বক্তা শ্রোতা আয়োজক সকলের উদ্দেশ্যের মধ্যেই ভয়ানক পরিবর্তন ঘটেছে৷  লোকদেখানোর প্রবণতা বাড়ছে ভয়ংকরভাবে৷ কে কার থেকে বেশী লোক জমা করতে পারে এর যেন একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে৷ এখনকার মাহফিল আয়োজকরা অনেক সতর্ক৷ তারা বক্তা দাওয়াত দেয়ার আগে রাতদিন এককরে ইউটিউবে বক্তার ভিউয়ার নির্ণয় করেন৷ কার মাহফিলে লোক বেশী হয়,কে ভালো গান পারে, কে কথার তালে তালে আকর্ষণীয়  বচনভঙ্গি দেখাতে পারে, তা গুরুত্ব পায় এসব ক্ষেত্রে৷ কোন বক্তা সে যেমনই হোক তিনি যদি ভাইরাল হয়ে যান, তবে তাকে আনতেই হবে নতুবা ওয়াজই হবেনা৷ 

আগে ওয়াজ-মাহফিলে পীর-বযুর্গ মুত্তাকী লোক দেখে আলোচক নির্বাচন করা হতো৷ কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির ভয়ানক কল্যাণে এখন এসব হাওয়ায় চলে গেছে৷ 

যার ফলে মাহফিলে ক্ষেত্র বিশেষ লাভের উল্টো ক্ষতিও হচ্ছে সমানতালে৷

অধিকাংশ বক্তা ও আয়োজকদের ব্যাবসায়িক মনোভাবের ফলে,শ্রোতারা নসীহতের চেয়ে সমালোচনার খোরাক’ই বেশী পাচ্ছে৷ ফলে মানুষের মাঝে দ্বীনের প্রতি অবজ্ঞার মাত্রা বাড়ছে ব্যাপকহারে৷

ওয়াজ করার জন্য একজন বক্তার এখলাস,তাকওয়া,আমল,এবং বড়দের তত্ত্বাবধানে  থাকা আবশ্যক৷ পাশাপাশি শ্রোতাদের মাঝেও এসব গুণাগুণ থাকা অতীব জরুরী৷ কিন্তু এখন বক্তা শ্রোতাদের মাঝে এসব শূন্যের কোটায়৷

সম্প্রতি শ্রোতারা যেমন সুর,শুদ্ধস্বর ও অভিনব বচনভঙ্গির প্রতি আকৃষ্ট,বক্তারাও টাকা,পাজারো,আর হেলিকপ্টারের প্রতি আকৃষ্ট৷ আর আয়োজকরা নিজের এলাকা,সংস্থা,প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লাভ ও সুনাম- সুখ্যাতির পাগল৷ যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বেদনাদায়ক৷

একসময় প্রতিটি মাহফিলে আল্লাহর খাস ওলীদের নাম ও উপস্থিতি দেখা যেতো,কিন্তু এখন কন্ঠ ও নৃত্যশিল্পীদেরকেই মানুষ বেশী পছন্দ করে৷

খুব আফসোস হয়,যখন অনুসৃত ব্যাক্তিরা মাইক হাতে অপরকে তিরস্কার ও কঠাক্ষ করায় মেতে উঠেন৷ অদ্ভুত  অঙ্গ ভঙ্গিমা করে নিজেদের ইলম আর ডিগ্রির জাহির করেন৷ নিজের উপাধি আর টাইটেল বলতে বলতে আরেকজনকে নিয়ে তামাশায় মত্ত হয়ে পড়েন! 

ভুল মাসআলা আর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে নিয়ে যান বিভ্রান্তির পথে! কেউ কেউ আবার ওয়াজের মাইক পেলে বিজ্ঞানী হয়ে যান৷ অদ্ভুত সব কথাবার্তা,চিন্তাধারা নাযিল করেন৷ 

একবারও কি ভেবেছি এসব করে আমরা নিজেদের জন্য বিপদ নিয়ে আসছি না তো ? মানুষের কাছে নিজেরা দিনদিন হাসি-তামাশার পাত্র হয়ে যাচ্ছি না তো ?নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য দ্বীন প্রচারের এ ময়দানটাকে কলুষিত করে দিচ্ছি না তো? 

দ্বীনি মাহফিলের ও করুণ দশা হলে কি হবে তার আগামীর গন্তব্য, তা কি ভেবে দেখার সময় এখনো হয়নি?


লেখক -কাওসার সিদ্দিক

 আলেম,অনুবাদক৷20/01/21

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *