প্রচারযুদ্ধে প্রার্থীরা

প্রচারযুদ্ধে প্রার্থীরা
Spread the love

সোনালী বাংলাঃ প্রতীক হাতে পুরো মাত্রায় প্রচারযুদ্ধে নেমেছেন ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা। গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে একটি পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য নগরী উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে রাজধানীর নানা সমস্যা তুলে ধরে নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এদিকে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও তাদের প্রতীক নিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

দ্বিতীয় দিন শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার প্রচারণা চললেও সন্ধ্যায় পান্থপথের সিআর দত্ত সড়কে অবস্থিত বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ক্যাম্পের পাশে প্রচারকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় অন্তত চারজন পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১
আহত হন।তবে কারা এই হামলা করেছে এ বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। এদিকে প্রচারণা চালানোর সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস অতীতের সমস্যা দূর করে একটি উন্নত নগর উপহার দেয়ার প্রতিশ্রতি দেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ইশকরাক হোসেন সবাইকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার প্রতিশ্রতির কথা জানান। অন্যদিকে শাহ আলীর মাজার জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেন উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রচারণা চালানোর সময় বলেন, তিনি ভোটারদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন।

উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন: আতিক
ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম আতিক বলেছেন, এবারের নির্বাচন আমার জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য এবং সর্বোপরি এই নগর ও নগরবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী ৩০শে জানুয়ারি নির্বাচনে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি। গতকাল মিরপুরে শাহ আলী মাজার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। এসময় তিনি সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে আতিক বলেন, একটি জনবান্ধব নগরী গড়ার লক্ষ্য নিয়ে নয় মাস কাজ করেছি, সামনেও করতে চাই। নারীবান্ধব শহর হবে আমাদের এই ঢাকা। জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, যানজট দূর হবে। আপনারা জানেন, নগরকে আলোকিত করতে আমি প্রায় ৪৪ হাজার এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শুরু করেছিলাম। এ ধরনের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। আমি ব্যক্তি আতিক আর নেই আমি এখন আওয়ামী লীগের আতিক। আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী কী উন্নয়ন করেছে আপনারা জানেন। এই শহরের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সেগুলো অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের ওপর আপনাদের আস্থা থেকে আমাকে ভোট দিন। এরপর শাহ আলীর মাজার জিয়ারত করে মোনাজাত করেন আতিকুল ইসলাম। এসময় আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি: তাবিথ
নির্বাচনী প্রচারে সরব ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। সকালে গণসংযোগ করেছেন উত্তরা থেকে। ঢাকা উত্তরের ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় তাবিথের গণসংযোগ। ভোট চাইতে চলে যান মানুষের দ্বারে দ্বারে। এসময় তাবিথের সঙ্গে যোগ দেন শতশত বিএনপি কর্মী। মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয় উত্তরখান-দক্ষিণখানের অলিগলি। বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থীর প্রচারণা দেখতে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এলাকাবাসীও। এ সময় সবাইকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট দিতে আহ্বান জানান তাবিথ আউয়াল। তাবিথের ভাষ্যে, ৩০শে জানুয়ারি যেকোনো মূল্যে মাঠে থাকবেন তিনি। সব ভয়ভীতি অতিক্রম করে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এ নির্বাচন। গণসংযোগকালে উত্তরখানের শাহ কবির মাজার জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় ৪৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ব্যাপারীসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জনতার উদ্দেশে তাবিথ বলেন, আগামী দিনে নিরাপদ শহর গড়ে তোলার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, নির্বাচিত হলে তা বাস্তবায়ন করব। পরে সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, নির্বাচনের মাঠে কোনো প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখছেন না তিনি।

বলেন, নির্বাচনের মাঠে আমি সকল প্রতিপক্ষকে সমান চোখে দেখি। কে ভালো কে খারাপ, তা জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। গণসংযোগে এসে জনগণের সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে এই মেয়র প্রার্থী বলেন, বিএনপি প্রার্থীরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই ভোটের উত্তপ্ত পরিবেশ দেখেছি। প্রশ্নও পাচ্ছি, জনগণ থেকে যে তারা ভোট দিতে পারবেন কি না। তবে তারা বলেছেন, সময় আসলে তারা ভোট অবশ্যই দেবেন। জনগণ চাচ্ছে বিএনপিকেই তাদের ভোট দেয়ার জন্য। উত্তরখানের মৈনারটেক এলাকায় ধানক্ষেতে নেমে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোট চান তাবিথ আউয়াল। কৃষকরা তাকে কাছে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হন। তবে দিনভর উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় ভোটপ্রচারে মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছেন তাবিথ আউয়াল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপির কর্মীরাও দলে দলে যোগ দিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সকাল থেকে আজমপুর হয়ে চৈতি গার্মেন্টস, উত্তরখান মাজার, মৈনার টেক, মাস্টার বাড়ি, আটপাড়া, ফয়েদাবাদ চৌরাস্তায় জনসংযোগ করেন। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই প্রচারণা কার্যক্রমে অংশ নেন তাবিথ আউয়াল এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় উত্তরায় বিএনপি সমর্থিত ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউ?ন্সিলর প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন করে সব ধরনের ভয়ভীতি উপক্ষো করে আগামী ৩০শে জানুয়ারি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আহ্বান জানান। এ সময় নির্বাচনে লেভেল প্লে?য়িং ফিল্ড আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রচারণার মাত্র দ্বিতীয় দিন। সামনের দিনগুলোতে দেখবো সব প্রার্থী প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে চালাতে পারেন কিনা। শুক্রবার বিকেলেও আমাদের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন। তাদের প্রচার কাজ দেরিতে শুরু করতে হয়েছে। বিএনপির সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় আছেন। আমরা আশা করবো জনগণ যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, ইসি (নির্বাচন কমিশনার) সেই ধরনের পদক্ষেপই নেবে। তিনি বলেন, ঢাকার নতুন ওয়ার্ডগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন করবো। যাতে আধুনিক ঢাকার সঙ্গে নতুন ওয়ার্ডের সমতা আসে। এই সরকারের মুখে শুধু উন্নয়নের বুলি শোনা যায়। বাস্তাবে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। চলছে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট আর অপশাসন। নগরবাসী ট্যাক্স দিয়েও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। তাই ভোটারদের প্রতি আমার অনুরোধ, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মার্কা ধানের শীষকে বিজয়ী করে সরকারের সব অপকর্মের জবাব দেবেন। তাবিথ বলেন, ভোটাররা সরকারের দুর্নীতি, অপশাসনের শিকার। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। তারা এর জবাব চায়, বিচার চায়। সেই বিচার আমরা জনগণকে নিয়ে করবো। ঢাকাকে বাঁচাতে আমাদের সব পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলতে হবে। তাবিথের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদল ঢাকা উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরপ্রার্থী দেওয়ান মো. নাজিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

ইশরাকের বাসায় ভোট চাইলেন তাপস
দক্ষিণ সিটি এলাকায় দিনভর প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। এরই মাঝে গোপীবাগের আরকে মিশন রোডে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসার নিচে প্রচারণা চালান এবং ভোট চান তাপস। সকালে পুরান ঢাকার গোপীবাগ, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, কে এম দাস লেন রোড, সেকেন্ড লেন, ইত্তেফাক মোড়, টিকাটুলিসহ ওয়ারী থানার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান তাপস।

প্রচারণা শুরুর আগে রোজ গার্ডেনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হন তিনি। এসময় তাপস আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে রাখেন নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি। বলেন, বর্তমানে ঢাকা অচল হয়ে আছে। এই অচল ঢাকা সচল করতে হবে। আপনারা আমাকে মেয়র নির্বাচিত করলে নতুন করে ঢেলে সাজাবো ঢাকাকে। ঢাকার প্রধান সমস্যা যানজট। এই যানজট নিরসনে রাস্তাগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে সাজাবো। এতে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমবে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। আর এটি হবে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান। আমি নির্বাচিত হলে ঢাকাবাসীর সকল মৌলিক চাহিদা পূরণে সচেষ্ট হবো। আর সেইসঙ্গে নিশ্চিত করবো সকল নাগরিক সুবিধা।

এসময় তিনি তার নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে প্রচারণা চালানোর কথা বলেন । নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটারের দ্বারে দ্বারে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট চাইতে হবে। সাদেক হোসেন খোকার বাড়িতে প্রচারণা চালানোর পর তিনি বলেন, ঢাকা হবে সম্প্রীতির রাজধানী। আমি বিশ্বাস করি সম্প্রীতির রাজনীতিতেই উন্নয়ন সম্ভব। সম্ভব জনগণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়া। তাপস আরো বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের মতো সামাজিক অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবো। রাজধানীতে মাদকসহ বেশ কিছু অপরাধমূলক সামাজিক সমস্যা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যাধি দূর করতে হবে। আমি নির্বাচীত হলে এলাকা ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবো। আর এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করবো এলাকা ভিত্তিক সমস্যা। ঢাকাকে করব উন্নত দেশের রাজধানী। সামাজিক অপরাধ নিরসনে পুরান ঢাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

তাপসের নির্বাচনী প্রচারণায় তীব্র শীত উপেক্ষা করে তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মান্নাফিসহ অন্যান্য নেতাকর্মরীরা। এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে রাখেন পুরো এলাকা। তাপস এসময় লোকজনদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়, লিফলেট বিতরণ ও ভোট প্রার্থনা করেন। পুরাণ ঢাকার বাসিন্দারা তাদের সমস্যা নিয়ে এগিয়ে আসেন আওয়ামী লীগ মনোণীত প্রার্থী তাপসের কাছে। রামকৃষ্ণ মিশন এলাকার বাসিন্দা মেয়র প্রার্থী তাপসের কাছে আর্জি জানান, এলাকা থেকে অবৈধ পার্কিং দুর করবার জন্য। তিনি বলেন, এই এলাকায় অবৈধ পার্কিয়ের কারণে যানজটসহ ব্যাবসায় নানা ক্ষতি হয়ে যায়। টিকাটুলী মোড়ের মুদি দোকানদার আবু হায়দার বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় মার্কেট এলাকায়। বৃষ্টি হলেই বন্ধ রাখতে হয় দোকান। সেইসঙ্গে দোকানে পানি না ঢোকার জন্য নিতে হয় নানা ব্যবস্থা। এই সমস্যা সমাধানের আর্জি জানিয়েছি ভোট চাইতে আসা মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলরদের কাছেও।

যতবাধাই আসুক ভোটারদের সঙ্গে আছি: ইশরাক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি নিজে আপনাদের পাশে থাকবো। যে কোনো সমস্যায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। যত বাধাই আসুক। গতকাল দ্বিতীয় দিনে প্রচারণা চালানোর সময় এসবকথা বলেন তিনি। তীব্র শীতে গণসংযোগে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যক্তি ইশরাক কিছুই না। এটা একটি দলের লড়াই, ধানের শীষের লড়াই। এটা মুক্তির লড়াই, আমাদের নেত্রীকে জেল থেকে বের করার লড়াই। আপনারা যদি দেশে শান্তি ফিরে পেতে চান, আপনাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চান, আপনারা যদি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চান এবং দুর্নীতির যে মহোৎসব হচ্ছে তা থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে জোরালোভাবে মাঠে থাকতে হবে। কোনোভাবেই আপনারা ভয় পাবেন না। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদেরই হবে।
তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে ভয় পাই না। আমরা মুক্তিযোদ্ধার জাতি। গত ১৩ বছর তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় রয়েছে, আমরা তো দেখেছি তারা কি করতে পারে, তাদের কোনো জনসমর্থন নেই। তাদের পাশে আজ ভোটাররা নেই। এইজন্য তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করছে।

আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবো। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে এখন অবশ্যই একটি পরিবর্তন আনতে হবে। এই সরকারের অধীনে যারা মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের তো আপনারা দেখেছেন। তারা এই শহরকে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহর বানিয়েছে। বায়ুদূষণ শহরের মধ্যে ঢাকা শহর এক নম্বরে রয়েছে। ইশরাক বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ শহরের মধ্যে এই শহর এক নম্বরে এসেছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য আপনারা আমাদেরকে ভোট দেবেন। একমাত্র আমরাই পারি এই শহরের পরিবর্তন আনতে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আসন্ন সিটি নিবাচনে যেখানেই অত্যাচার হবে সেখানেই প্রতিরোধ হবে।

গতকাল দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর খিলগাঁও, তিলপাপাড়া, তালতলা, মতিঝিল, আরামবাগ, এজিবি কলনী, শাহজাহানপুর, খিলগাওয়ের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করেন ইশরাক হোসেন। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডিসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডিসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *