এডিপি সংশোধন: মোটা অঙ্কের বৈদেশিক অর্থ কাটছাঁটের আশঙ্কা

এডিপি সংশোধন: মোটা অঙ্কের বৈদেশিক অর্থ কাটছাঁটের আশঙ্কা
Spread the love

সোনালী বাংলাঃ  প্রতিবছরের মতো এবারও চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান অংশ থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অর্থ ব্যয় করছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

এ অবস্থায় এডিপি সংশোধন প্রক্রিয়ায় হাত দিচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ খাত থেকে বড় ধরনের বরাদ্দ ছেঁটে ফেলা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে চার মাসে বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের হালহকিকত জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে ১৪ নভেম্বর। এতে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে চার মাসের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সংশোধিত এডিপিতে চলতি ও অনুমোদিত নতুন প্রকল্পে বরাদ্দের চাহিদা জানাতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছর স্বাভাবিকের চেয়ে বড় অঙ্কের বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।কেননা বরাদ্দ বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা সে অনুযায়ী বাড়েনি। এছাড়া অর্থবছরের প্রথম চার মাসে খরচের অগ্রগতি কম। তবে জুলাইয়ের দিকে যেহেতু বন্যা, বৃষ্টি ছিল; তাই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো অর্থ ব্যয়ের ব্যর্থতা দেখাতে পারে। এখন শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়েছে। তাই সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠারও সুযোগ এখনও শেষ হয়নি।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লা বলেন, বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের যে ট্রেন্ড (ধারাবাহিকতা) লক্ষ করা যাচ্ছে, যদি এর অগ্রগতি না হয়, তাহলে বড় অঙ্কের বরাদ্দ কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তা নির্ভর করবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অগ্রগতির ওপর। আমরা চেষ্টা করছি যাতে ব্যয় বাড়ানো যায়। তিনি জানান, বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশের অনুমতি নিতে হয়।

এতে বেশকিছু সময় চলে যায়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ঋণ চুক্তির সময় উন্নয়ন সহযোগীরা অহেতুক কিছু শর্ত আরোপ করে, যা আমাদের দেশের কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন না। বাস্তবায়ন পর্যায় গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। অর্থছাড়ে জটিলতা দেখা দেয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, কত টাকা কমতে পারে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে চাহিদার তথ্য চেয়েছি। সেটি পেলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সিরিজ বৈঠক হবে। ওইসব বৈঠকে আলোচনার পরই চূড়ান্ত করা হবে এ বছর কত বাদ যাবে। তবে প্রতিবছরের মতো কিছু বরাদ্দ তো অবশ্যই ছেঁটে ফেলতে হবে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে মোট বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।

এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার তহবিল থেকে ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা।

গত চার মাসের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করেছে ৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের (একই সময়ে) খরচ হয়েছিল ৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ১১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৪ হাজার ৮৬১ টাকা, যা ওই সময়ের এডিপির ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ।

সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

কিন্তু অর্থবছরের মাঝপথে এসে বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ধরা হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা। এ বরাদ্দও পুরোপুরি ব্যয় হয়নি।

পুরো অর্থবছর বৈদেশিক সহায়তার অংশ থেকে ব্যয় হয়েছিল ৪৭ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বা ৯২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অব্যবহৃত থাকে ৩ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা।বৈদেশিক সহায়তা বাস্তবায়নের এ হার আগের অর্থবছরের (২০১৭-১৮) তুলনায়ও কম। ওই অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা বা ৯৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *